দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জমিদার বোরহানউদ্দিন চৌধুরী

আযাদ আলাউদ্দীন

দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ দেউলা-সাচরা ইউনিয়ন। ওই এলাকার প্রবেশ পথে পাকা রাস্তার পাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে দৃষ্টি নন্দন বেশ কিছু স্থাপনা। ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম এসব স্থাপনাগুলো তৈরী করেছিলেন তৎকালীন জমিদার বোরহানউদ্দিন চৌধুরী। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, বোরহানউদ্দিন চৌধুরী বাড়ীর অনেক ঐতিহ্যই এখন বিলীন হয়ে গেছে। তবে এখনও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে বোরহানউদ্দিন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত বসত বাড়ি এবং দৃষ্টি নন্দন মসজিদ সহ বিভিন্ন স্থাপনা।

প্রায় দেড়শ বছর আগে নির্মিত এসব স্থাপনা আজো স্বমহিমায় টিকে আছে। বাড়িটির ভেতরে প্রবেশ করলেই প্রতিটি পরতে পরতে দেখতে পাওয়া যায় জমিদারী আর ঐতিহ্যের ছোয়া। বোরহানউদ্দিন চৌধুরী বাড়ির দরজায় স্থাপিত মসজিদটিও বেশ দৃষ্টি নন্দন। দিল্লী থেকে আনা স্বেতপাথর আর বেলজিয়ামের লোহা দিয়ে নিখুতভাবে তৈরী এই জমিদার বাড়ির স্থাপনাগুলো এখনো দৃষ্টিকাড়ে নতুন প্রজম্মের।
বোরহানউদ্দিন চৌধুরী বাড়ির দরজায় মুসাফিরদের জন্য ছিল তিনটি কাচারি ঘর। দুর-দুরান্ত থেকে আগত মুসাফিরদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল এখানে, কিন্ত এখন আর সেসব ঐতিহ্য নেই। মসজিদ ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য কয়েকশ একর জমি রেখে বোরহানউদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু সেসব জমির অধিকাংশই বেহাত হয়ে গেছে। বর্তমানে মসজিদের নামে ৮৪ একর জমি থাকলেও তার অধিকাংশই ব্যক্তি মালিকানায় ভোগ দখল চলছে।

বোরহানউদ্দিন চৌধুরীর প্রো-পৌত্র আলহাজ অ্যাডভোকেট শহীদুল হক নকীব চৌধুরী জানান, ‘আমরা পারিবারিকভাবে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি’। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, লোকমুখে একসময় বোরহানউদ্দিন উপজেলার নাম ছিলো কালীগঞ্জ। পরবর্তীতে বোরহানউদ্দিন চৌধুরীর নামানুসারে এ উপজেলার নামকরণ অফিসিয়াললি চুড়ান্ত হয় ‘বোরহানউদ্দিন’।

বোরহানউদ্দিন চৌধুরীর বংশ পরিচিতি
অনুসন্ধ্যান করে জানা যায়, সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে চলে আসেন শাহ সুজা, তখন তার সহকর্মিরা ছড়িয়ে পড়েন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে, তাদেরই একজন ছিলেন মোঃ হানিফ। তিনি বসতি শুরু করেন দেশের বৃহত্তম গাঙেয় দ্বীপ তৎকালীন ভোলা মহকুমায়। হানিফ হাওলাদারের সন্তান হলেন মোঃ শরীয়ত উল্লাহ হাওলাদার, তার চার সন্তান হলেন যথাক্রমে জহির উদ্দিন হাওলাদার, সমর উদ্দিন হাওলাদার, করিম উদ্দিন হাওলাদার ও কমর উদ্দিন হাওলাদার। এদের মধ্যে জহির উদ্দিন হওলাদারের ঘরে জন্ম নেন বোরহানউদ্দিন চৌধুরী। পারিবারিকভাবে তারা ছিলেন বিশাল সম্পদের মালিক। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তাদের ছিল হাজার হাজার একর সম্পত্তি। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ‘চৌধুরীর হাট’ গড়ে উঠেছে এই বোরহানউদ্দিন চৌধুরীর নামেই। ভোলা শহরে প্রথম যে দুটি পাকা দালান (ভবন) তৈরী হয়েছিল, তার একটির মালিক ছিলেন বোরহানউদ্দিন চৌধুরী অন্যটি রজনী করের ভবন হিসেবে পরিচিত।
বোরহানউদ্দিন চৌধুরী বসতি গড়ে তোলেন সাচরা ইউনিয়নে। তখন দেউলা-সাচরা সহ পুরো এলাকার জমিদার ছিলেন তারা, পরবর্তীকালে তার নামানুসারেই ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার নামকরণ করা হয়। ##

ছবির ক্যাপশন ভোলার বোরহানউদ্দিন চৌধুরী বাড়ির পুরনো স্থাপনা ও মসজিদ

 

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো চিফ, দৈনিক নয়া দিগন্ত

Next Barisal banner ads

Leave a Reply

Your email address will not be published.