বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং দেশভাগ ও বাংলা ভাগ

মাহমুদ ইউসুফ ।।

বাংলা-পাক-ভারত উপমহাদেশে বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকের রাজনীতি নানাবিধ জটিল সমীকরণে সন্নিহিত। ভারতের জন্ম, পাকিস্তান সৃষ্টি, বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগ, কাশ্মির ট্রাজেডি উপমহাদেশের ভৌগোলিক রূপরেখা বদলে দেয়। পাশাপাশি সংস্কৃতি-সভ্যতার ক্ষেত্রেও শুরু হয় নতুন পদাঘাত। ঝড়-ঝাপটা ও ঘূর্ণিবাতাসে তছনছ হয় মানব জীবন। সেই সময়ের উত্তাল দিনগুলোতে রাজনৈতিক মঞ্চে যারা সক্রিয় ছিলেন তারাই বলতে পারবে কী দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে তাদের সংগ্রাম সফল-বিফল হয়। এ পর্বে কলকাতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রধান প্রধান চরিত্রে ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, মওলানা আকরম খাঁ, শরৎচন্দ্র বসু, খাজা নাজিমুদ্দিন, ড. শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সহযোগী ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল, কিরণ শঙ্কর রায় প্রমুখ। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে কায়েমি কুটকৌশলের মাধ্যমে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাঠানো হয়।

কলকাতা দাঙ্গা
১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের সরকার, প্রশাসন, জমিদারি, রাজনীতি, শিল্পবাণিজ্য, অর্থব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, আইন ব্যবস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষা-ব্যবস্থা, চিকিৎসা, সভ্যতা-সংস্কৃতিসহ সবকিছুই ছিলো ইংরেজদের পাশাপাশি হিন্দুদের নিয়ন্ত্রণে। চাকরির প্রতিটি বিভাগেই ছিলো তাদের একচেটিয়া আধিপত্য। [ডাঃ কালিদাস বৈদ্য, বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে অন্তরালের শেখ মুজিব, পৃ ৩২-৩৩, ৭২-৭৪] ব্যতিক্রম ছাড়া মুসলিমরা ছিলো কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর। তাদের হাতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক প্রাধান্য ছিলো না। সবক্ষেত্রেই ছিলো হিন্দু রাজত্ব। পূর্ববাংলায় ৫৯ হাজার জমিদারির ৫৪ হাজারই ছিলো বর্ণহিন্দু। পশ্চিম বাংলাতে তো সবই তারা ছিলো। এমতাবস্থায়, মুসলিমদের কোনো দাঙ্গা ঘটানোর সুযোগ বা ক্ষমতা থাকার কথা নয়। যারা দিন আনে দিন খায়, যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত তাদের পক্ষে দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টির সুযোগ ছিলো না।

১৯৪৬ সালে কলকাতা গড়ের মাঠে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী সভাপতিত্ব করেন। খাজা নাজিমউদ্দিনের পর সভায় রাজা গজনফর আলী ইংরেজিতে বয়ান করেন। অতঃপর সোহরাওয়ার্দী বক্তৃতার জন্য দাঁড়ালে মিছিল ও জনসভায় আগমনকারীদের উপর হিন্দুদের সশস্ত্র আক্রমণের খবর আসতে থাকে। আক্রান্ত মুসলমানদের অনেকেই রক্তমাখা জামা কাপড়সহ সভায় হাজির হয়ে হিন্দুদের সশস্ত্র আক্রমণের বিবরণ দিতে থাকে। সোহরাওয়ার্দী বুঝতে পারলেন। জনতাকে সান্তনা দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরে যেতে বললেন। ১৬ আগস্টের ভয়াবহ সংঘর্ষ দিনভর চলছিল। সে বিষয়ে মুসলিম লীগের কোনোই জ্ঞান, সন্দেহ বা ধারনা ছিলো না। মুসলমানরা নিরস্ত্র এবং পরিস্থিতির মোকাবিলা করার কোনো প্রস্তুতি ছিলো না। কলকাতায় এ উপলক্ষে প্রত্যাশিত বিরাট সমাবেশ দেখাবার জন্য বর্ধমান থেকে আবুল হাশিম তাঁর দুই শিশুপুত্র বদরুদ্দিন উমর (১৫) এবং শাহাবুদ্দিন মুহম্মদ আলীকে (৮) নিয়ে সমাবেশে হাজির হন। তেমনি ফরিদপুরের লালমিয়াও তার ৬/৭ বছরের নাতিকে ময়দানে নিয়ে এসেছিলেন। [ইবরাহিম রহমান, কুখ্যাত কলকাতা হত্যাকান্ড, দৈনিক সংগ্রাম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭] হিন্দুরা আজও বলে বেড়াচ্ছে মুসলিম লীগ ও সোহরাওয়ার্দী দাঙ্গার জনক! আমাদের প্রশ্ন, মুসলিমরা দাঙ্গার উস্কানিদাতা হলে আবুল হাশিম বা লাল মিয়া তো নিজ শিশুদের নিয়ে জনসভায় যেতেন না। মূলত কংগ্রেস, মহাসভাই ছিলো দাঙ্গা হাঙ্গামার মূল নিয়ামক। মিডিয়া ট্রায়ালের পাশাপাশি প্রচারপত্র বিলি, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন, সংগ্রাম, লড়াই, সংঘর্ষ, দ্বন্দ্ব, সংঘাত, সাম্প্রদায়িকতা সবকিছুই সম্মিলিতভাবে সুসংহত করে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন। পরিশেষে বাংলা ভাগ করতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকরা।

আমরা মনে করি, বাংলা ভাগ ও কলকাতা দখলে নেওয়ার জন্যই বর্ণহিন্দুরা অতি কৌশলে কলকাতা দাঙ্গা সৃষ্টি করে। একই সাথে সোহরাওয়ার্দী সরকারকে বিপদে ফেলাও ছিলো তাদের উদ্দেশ্য। কংগ্রেস, মহাসভা উভয়ই দায়ী এ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জন্য। তারা বুঝাতে চেয়েছিল সোহরাওয়ার্দী বা মুসলিম সরকারের অধীনে পশ্চিম বাংলা নিরাপদ নয়। তাই তারা বঙ্গ ব্যবচ্ছেদ ও কলকাতা ভারতভুক্তির জন্য দাঙ্গার উদ্যোগ নেয়। আবুল মনসুর আহমদ লিখেছেন, ‘কলিকাতায় স্বভাবতই হিন্দুর চেয়ে মুসলমানের জান-মালের ক্ষতি হয়েছিল অনেক বেশি।’ [আবুল মনসুর আহমদ রচনাবলি ৩য় খন্ড, পৃ. ১৫৩] সার্বিকভাবে লাভবান হয়েছে হিন্দুরা। কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গকে তারা আলাদা করতে সক্ষম হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটনের মাধ্যমে। কলকাতা করায়ত্ত করা, বাংলা ভাগ ও হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্যই কংগ্রেস-মহাসভার নেতাকর্মীদের পূর্বপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। বিহার, কলকাতা, পাটনা, পাঞ্জাব দাঙ্গায় বর্ণহিন্দুদের খোলস পুরোটাই বেরিয়ে পড়ে। তাদের মানসিক দৈন্যতা, নিচু মনোভাব, সঙ্কীর্ণতা ভিন্নমতের দলনের চাণক্যবাদী চরিত্রের নিমর্মতায় খন্ডবিখ- হয় উপমহাদেশ।

বঙ্গবন্ধু বিহার ও কলকাতা দাঙ্গা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একটি ঘটনার অবতারণা করেছেন এভাবে, ‘আমি আর ইয়াকুব নামে আমার এক ফটোগ্রাফার বন্ধু পরামর্শ করলাম, আজ মহাত্মাজীকে একটা উপহার দিব। ইয়াকুব বলল, ‘তোমার মনে আছে আমি আর তুমি বিহার থেকে দাঙ্গার ফটো তুলেছিলাম?’ আমি বললাম, ‘ হ্যাঁ মনে আছে।’ ইয়াকুব বলল, ‘সমস্ত কলকাতা ঘুরে আমি ফটো তুলেছি। তুমি জান না তার কপিও করেছি। সেই ছবিগুলো থেকে কিছু ছবি বেছে একটা প্যাকেট করে মহাত্মাজীকে উপহার দিলে কেমন হয়।’ আমি বললাম, ‘চমৎকার হবে। চল যাই, প্যাকেট করে ফেলি।’ যেমন কথা, তেমন কাজ। দুইজনে বসে পড়লাম। তারপর প্যাকেটটা এমনভাবে বাঁধা হল যে, কমপক্ষে ১০ মিনিট লাগবে খুলতে। আমরা তাঁকে উপহার দিয়েই ভাগব। এই ফটোর মধ্যে ছিল মুসলমান মেয়েদের স্তন কাটা, ছোট শিশুদের মাথা নাই, শুধু শরীরটা আছে, বস্তি, মসজিদে আগুনে জ্বলছে, রাস্তায় লাশ পড়ে আছে, এমনই আরও অনেক কিছু। মহাত্মাজী দেখুক, কিভাবে তাঁর লোকেরা দাঙ্গাহাঙ্গামা করেছে এবং নিরীহ লোককে হত্যা করেছে।’   [ অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ ৮১]

দেশভাগ
সরোজিনী নাইডু ১৯১৫ সালে জিন্নাহকে, ‘অ্যামবাসাডর অব হিন্দু-মুসলিম ইউনিটি’ হিসেবে অভিনন্দন জানান। [যশোবন্ত সিংহ, জিন্না ভারত দেশভাগ স্বাধীনতা, পৃ ২, ৯৭] জিন্নাহ ছিলেন ভারতের সফল জাতিগোষ্ঠীর ঐক্য, সংগতি ও মিলনমেলার প্রতীক। লয়েড ও সুসান রুডলফ সোজাসুজি তুলে ধরেছেন, জিন্নাকে উদার, বহুসংস্কৃতিমান এবং ধর্মনিরপেক্ষ বলেই দেখা হত, যিনি ভারতের ঐক্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো যাঁকে বলেছিলেন, কংগ্রেসের চেয়েও বেশি কংগ্রেস।’ [যশোবন্ত সিংহ, পৃ ৩] জিন্নাহ ১৯৪৬ সালের আগে কখনও দেশভাগ দাবি করেনি বা তাঁর চিন্তায়ও এটা ছিলো না। হিন্দু নেতারা মুসলমানদের কোনো দাবির প্রতিই তোয়াক্কা করেনি। মুসলিমদের কোনো অধিকার থাকতে পারে না- এই ছিলো তাদের দৃষ্টিভঙ্গী। মূলত শ্যামা প্রসাদ, নেহরু, গান্ধি, প্যাটেল প্রমুখ রাজনীতিকের সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির কারণেই ভারতবিভক্তি হয়। পিনাকী ভট্টাচার্য আমাদের জানান, দ্বি-জাতি তত্ত্বের জনক জিন্নাহ নয়; হিন্দুত্ববাদী সাভারকার। অথচ কী আশ্চর্য! ভারত ও বাংলাদেশের সেক্যুলাররা এই দ্বি-জাতি তত্ত্বের জন্ম দেওয়ার জন্য জিন্নাহ আর মুসলিম লীগকেই সব সময় তুলাধুনা করে। দেশভাগের তিক্ততা, হাহাকার, ক্ষত এখনও হৃদয়ে জাগরুক। সাম্প্রদায়িকতা, ক্রোধোন্মত্ততা, রক্তপাত আর নরমেধযজ্ঞের বিভীষণে সংখ্যালঘুরা সেদিন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে কংগ্রেস, মহাসভা, গান্ধী, প্যাটেল, নেহরু, শ্যামাপ্রসাদের ষড়যন্ত্রে সেদিন যুক্তবাংলা ইস্যুও বরবাদ হয়। যুক্তবাংলা গঠনের ব্যর্থতা নিয়ে বাংলাদেশে নানা পাঠ বিদ্যমান। কেউ সত্য লিখছেন, কেউ মিথ্যার ফুলঝুড়ি ফুটাচ্ছেন। আবার কেউ সত্যকে বিকৃত করার নানা কোশেশ করছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের প্রধান ছাত্র নেতা। পাকিস্তান আন্দোলনে তার জোরালো ভূমিকা আমরা দেখতে পাই ইতিহাসের পাতায়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় তিনি তাঁর সর্বশক্তি বিলিয়ে দেন। কলকাতায় অধ্যায়নকালে তাঁর ধ্যানে, ভাবনায়, স্মরণে, শয়নে, স্বপনে, বয়ানে, করণে, মননে ছিলো শুধুই পাকিস্তান। সর্বস্ব উৎসর্গ করেন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। এ সংগ্রামে তাঁর সাহসী ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল। স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তান না হলে ১০ কোটি মুসলমানের কি হবে? … অখন্ড ভারতে যে মুসলমানদের অস্তিত্ব থাকবে না এটা আমি মন প্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করতাম। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হিন্দু নেতারা ক্ষেপে গেছেন কেন? ভারতবর্ষেও মুসলমান থাকবে এবং পাকিস্তানেও হিন্দু থাকবে। … এখন আর মুসলমান ছেলেদের মধ্যে মতবিরোধ নাই। পাকিস্তান আনতে হবে এই একটাই শ্লোগান সকল জায়গায়।’ [অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ ৩৫-৩৬]

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা না হলে বাংলাদেশ স্বভাবতই ভারতভুক্ত হতো। আর ভারতভুক্ত হলে বাংলাদেশের কী দশা হতো তা অবশ্যই অনুমেয়। ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেছেন, ‘দেশটা যদি বিভক্ত না হতো, সকল পরীক্ষায় মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থান করা সত্ত্বেও ধর্মনিরপেক্ষ অখন্ড ভারতবর্ষে আমি হতাম বড় জোর একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। আর আমি যদি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হতাম, ভেবে দেখুন আপনারা কে কোথায় থাকতেন।’ ভারতের ৭৩ বছরের ইতিহাস রক্তারক্তির ইতিহাস। ভারত সরকার রক্ত নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। কাশ্মির, হায়দারাবাদ, মিজোরাম, সিকিম, নাগল্যান্ড, জুনাগড়, ভূপাল, মালাবার, গোয়ায় কী হয়েছে তা আমাদের অজানা নয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, জাতিগত নিধন, মসজিদ ভাঙ্গা, মুসলিম নিধন, শিখ-খ্রিস্টান দলন ভারত সরকারের দৈনন্দিন রুটিন ওয়ার্ক। ভারতীয় ঐতিহাসিক তপন রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা প্রায় ৮৫ হাজার তরুণ-তরুণীকে খতম করে দিয়েছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরামেও সামরিক বাহিনীর হাতে শেষ হয়ে যাওয়া নাগরিকের সংখ্যা অক্লেশে কাশ্মীরের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। এ সবের পরও দুনিয়ার বৃহত্তম গণতন্ত্রের বাসিন্দা হিসেবে আমরা গর্ব করব?’ [আনন্দবাজার, কলকাতা, ১৮ ডিসেম্বর ২০১২] কাশ্মিরিদের অধিকার প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘ভারতের উচিত ছিল গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার মেনে নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটা স্থায়ী শান্তি চুক্তি করে নেওয়া। তখন পাকিস্তান ও ভারত সামরিক খাতে অথ ব্যয় না করে দুই দেশের অথনৈতিক উন্নতির জন্য অথ ব্যয় করতে পারত। দুই দেশের জনগণও উপকৃত হত। ভারত যখন গণেতন্ত্রের পূজারি বলে নিজকে মনে করে তখন কাশ্মীরের জনগণের মতামত নিতে কেন আপত্তি করছে?’ [ শেখ মুজিবুর রহমান: কারাগারের রোজনামচা, পৃষ্ঠা ১৫৯-১৬০] পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রে যোগ না দিলে বাংলাদেশকে থাকতে হতো দিল্লি ও কলকাতার অধীন বঙ্গ প্রদেশের অংশ হয়ে জেলা শহর হিসেবে। পূর্ব বাংলাকে বর্ণহিন্দুরা কোনোদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দিত না। স্বাধীনতার আলো, শিক্ষার আলো, সংস্কৃতির আলো, সভ্যতার আলো, চাকরির আলো জুটতনা কোনোদিন আমাদের ললাটে। আমাদের টুঁটি চেপে ধরত ওরা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্পর্কে ভারতীয় ইতিহাসবিদ বিমলানন্দ শাসমল লিখেছেন, ‘বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দবার জন্য আমরা ভারতীয়রা কৃতিত্বের দাবি করি এবং শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে সেইজন্য এই সময়ে এশিয়ার মুক্তি সূর্য বলেও অভিহিত করা হোতো। কিন্তু বিনীতভাবে বলতে চাই- যে লোকটির জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পারলো তাঁর নাম মহম্মদ আলি জিন্না। ১৯৪৭ সালের ২০ শে জুন পূর্ব বাংলার মুসলমানরা জিন্নার আহ্বান অগ্রাহ্য করে যদি পাকিস্তানে যোগ না দিতেন এবং ভারতে যোগ দিতেন এবং তারপর ১০-২০ বছর বাদে যে-কারণে পাকিস্তান হতে বিচ্ছিন্ন হতে চাইলেন অর্থাৎ ভাষা পার্থক্যের জন্য ভারতবর্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতালাভ করতে চাইতেন, তাহলে শেখ মুজিবুর রহমানকে আমরা বাঙালিরা [হিন্দুরা] কি ফুলের মালা দিয়ে পূজা করতাম, না রাস্তায় গুলি করে মারার দাবি জানাতাম? প্রায় একই কারণে শেখ আব্দুল্লাকে কত বছর কারাগারে থাকতে হয়েছিল, নিশ্চয়ই সেকথা কেউ ভোলেন নি। পাকিস্তানে স্বেচ্ছায় যোগ দিয়ে তারপর পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হবার দাবি জানালে পাকিস্তান পূর্ব বাংলায় যে অত্যাচার করেছিল, আমাদের ভারতবর্ষে স্বেচ্ছায় যোগ দিয়ে তারপর ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হবার দাবি জানালে ভারতবর্ষ পূর্ব বাংলায় পাকিস্তানের চেয়ে বেশি না হোক কম অত্যাচার করতো না।

মিজো-নাগাদের উপর আমরা যে অত্যাচার করেছিলাম, পৃথিবীর লোক কোনোদিন সে সংবাদ জানতে পারবে না। এবং ভারতের মত শক্তিশালী দেশের সংগে লড়াই করবার জন্য ক্ষুদ্র পাকিস্তান বা পৃথিবীর কোনো দেশের কার্যকরী সাহায্য পূর্ব বাংলার লোকেরা পেতেন না। ভাগ্যবশত পূর্ব বাংলা পাকিস্তানে যোগ দিয়েছিল, তাই খুব সহজেই স্বাধীন হতে পারলো – না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দূর অস্ত হয়ে থাকতো। সেই জন্যই বললাম, পূর্ব বাংলার মুসলমানরা মহম্মদ আলি জিন্নার ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানে যোগ দিয়েছিল বলেই সহজে স্বাধীন হোলো। ১৯৪০-এ লাহোরে পাকিস্তান প্রস্তাবে জিন্না একাধিক মুসলমান-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নই দেখেছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে জিন্নার স্বপ্নই সফল হোলো।’ [বিমলানন্দ শাসমল, ভারত কী করে ভাগ হলো, পৃ ১৬০-১৬১]

বাঙলা ভাগ
সাধারণ পাঠে আমাদের জানানো হচ্ছে, মুসলিম লীগ ও এম এ জিন্নাহ ছিলেন স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রধান প্রতিবন্ধক। কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের আলোকে আমরা দেখার ও বোঝার চেষ্টা করব, অবিভক্ত বাংলা পরিকল্পনা কেন আতুঁরঘরেই মৃত্যুবরণ করল? বৃহৎ বাংলা গঠনের দাবি ছিলো এখানকার প্রধান জনগোষ্ঠীর। বৃহৎবঙ্গ সর্বপ্রথম গঠন করেন হাজি সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৪৯ সালে। তাঁর মাধ্যমেই সুলতানি আমলে সোনার বাংলার পদযাত্রা। পরবর্তী আফগান আমল, মুঘল আমল, ব্রিটিশ আমলে বাংলার অনেক রদবদল ঘটে। ১৯৪৬ সালে এসে সুলতানি বাংলার আদলে যুক্তবাংলা গঠনের দাবি করে বাঙালি জনতা। মাওলানা মোহাম্মদ শামসুল হুদা পাঁচবাগীকে বৃহত্তর বাংলার সর্বপ্রথম দাবিদার বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা চলে। [ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, রাজনীতিতে বঙ্গীয় উলামার ভূমিকা, পৃ ২১১] অন্যদিকে বাংলা ভাগের প্রথম প্রস্তাবক সম্ভবত স্বরাজি নেতা লালা লাজপত রায়। বাবু রায় ১৯২৪ সালে বলেন, ‘পঞ্জাবি মুসলমানরা যেহেতু সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দিতে রাজী নয়, সুতরাং পঞ্জাবকে ভাগ করাই শ্রেষ্ঠ, দরকার হলে বাংলাকেও ভাগ করতে হবে এবং স্বশাসিত হিন্দু ও মুসলিম প্রদেশ নিয়ে একটি ফেডারেশন গড়ে তুলতে হবে।’ [ যশোবন্ত সিংহ, জিন্না ভারত দেশভাগ স্বাধীনতা, পৃ ১৪] মুসলিম সম্প্রদায় ও মুসলিম লীগ থেকে সর্বোচ্চ কোশেশ করা হয়, যুক্তবাংলা প্রতিষ্ঠার জন্যে। মুসলিম লীগের শীর্ষ নেতৃত্বও অবিভক্ত স্বাধীন বাংলাকে সমর্থন দেয়। এ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে নানাবিধ তথ্যসম্বলিত বয়ান আছে।

বেঙ্গল মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটি এক ফর্মুলা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে। তাতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে। মওলানা আকরম খাঁ সাহেব মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমার রক্তের ওপর দিয়ে বাংলাদেশ ভাগ হবে। আমার জীবন থাকতে বাংলাদেশ ভাগ করতে দেব না। সমস্ত বাংলাদেশই পাকিস্তানে যাবে।’ স্যার নাজিমুদ্দিন ১৯৪৭ সালের ২২ শে এপ্রিল ঘোষণা করেছিলেন, ‘যুক্ত বাংলা হলে হিন্দু মুসলমানের মঙ্গলই হবে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘এই ফর্মুলা (স্বাধীন বাংলা) নিয়ে জনাব সোহরাওয়ার্দী ও শরৎ বসু দিল্লিতে জিন্নাহ ও গান্ধীর সাথে দেখা করতে যান। শরৎ বসু নিজে লিখে গেছেন যে জিন্নাহ তাঁকে বলেছিলেন, মুসলিম লীগের কোনো আপত্তি নাই, যদি কংগ্রেস রাজি হয়। ব্রিটিশ সরকার বলে দিয়েছে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ একমত না হলে তারা নতুন কোনো ফর্মুলা মানতে পারবেন না। শরৎ বাবু কংগ্রেসের নেতাদের সাথে দেখা করতে যেয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে এসেছিলেন। কারণ, সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘শরৎ বাবু পাগলামি ছাড়েন, কলকাতা আমাদের চাই।’ মহাত্মা গান্ধী ও প-িত নেহেরু কোনো কিছুই না বলে শরৎ বাবুকে সরদার প্যাটেলের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আর মিস্টার প্যাটেল শরৎ বাবুকে খুব কঠিন কথা বলে বিদায় দিয়েছিলেন। কলকাতা ফিরে এসে শরৎ বসু খবরের কাগজে বিবৃতির মাধ্যমে একথা বলেছিলেন এবং জিন্নাহ যে রাজি হয়েছিলেন একথা স্বীকার করেছিলেন।’ [অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ ৭৪]

জয়া চ্যাটার্জী জানান, ‘বস্তুত বাঙলা-বিভাগ আন্দোলনের প্রধান সংগঠক ছিল বেঙ্গল কংগ্রেস।’ [বাঙলা ভাগ হল, পৃ ২৮৬] ১৯৪৭ সালের মে মাসে কংগ্রেস ও মহাসভার যৌথ উদ্যোগে কলকাতায় এক বিরাট জনসভা হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার। বাঙলা ভাগের জন্য ৭৬টি জনসভা হয়। এরমধ্যে কংগ্রেস ৫৯টি, মহাসভা ১২টি, যৌথভাবে ৫টি আয়োজন করে। কলকাতার গবেষক নারায়ণ সরকার লিখেছেন, ‘১৯৪৬ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুসলমানদের হাত থেকে হিন্দুর সনাতন ধর্ম ও সংস্কৃতিকে বাঁচানোর জন্য বাংলা ভাগ করে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে হিন্দুদের জন্য ভারতীয় ইউনিয়নের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ গঠনের দাবি করেন। হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেস ১৯৪৬-এর এপ্রিল থেকে এই দাবি নিয়ে বাংলা ভাগের প্রচার অভিযান জোরালো করে তোলে সমগ্র অবিভক্ত করে তোলে সমগ্র অবিভক্ত বাংলা জুড়ে। ইতিহাসবদি জয়া চ্যাটার্জির ভাষায়, এই আন্দোলনের পুরোভাগে ছিল ‘হিন্দু ভদ্রলোক’ যারা ইতিমধ্যেই ‘জাতীয় হিন্দু সত্তা’ গঠন করেছিল, এবং নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করেছিল। ১৯৪৬-এর মে মাস থেকে শরৎচন্দ্র বসু ও মুসলিম লীগের আবুল হাশিম, সুহরাবর্দিদের উদ্যোগে বাংলা ভাগের বিরোধীতা করে স্বাধীন অখন্ড বাংলার দাবিতে আন্দোলন শুরু করা হয়- প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব তার সম্পূর্ণ বিরোধীতা করে ও শরৎচন্দ্র বসুর নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালায় ও কুৎসা রটনা করে।’ [নারায়ণ সরকার, হিন্দু জাতীয়তাবাদের ফ্যাসিবাদী স্বরূপ (প্রবন্ধ), অনীক, পৃ ৪৪] কংগ্রেস ও মহাসভা বঙ্গ ব্যবচ্ছেদে জঘন্যসব গোপন তৎপরতা, গোপনে প্রকাশ্যে বিভিন্ন হিংসাত্মক ও উস্কানিমূলক কর্মকা-, আক্রমণাত্মক ও সংঘাতমূলক চিঠি-পত্র, বয়ান-বিবৃতি, পোস্টারিং, দেয়ালিং-এ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে দেশবাসী। শহর, নগর, বন্দর, গ্রাম, গঞ্জে বঙ্গ বিভক্তির পক্ষে জনমত সৃষ্টির কোশেশ করে। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তাদের নৈরাজ্য চলে। জয়া চ্যাটার্জীল বেঙ্গল ডিভাইডেড শীর্ষক গবেষণাকর্মে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর কাছে লিখিত একজন সাবেক হিন্দু সৈন্য অফিসার একপত্রে ঘোষণা করেন, ‘হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলায় আমাদের বিপজ্জনক শত্রু মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য আমরা বর্ধমান জেলার সৈন্যবাহিনীর সাবেক হিন্দু কর্মকর্তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি … আমরা প্রস্তুত আছি, আপনার নির্দেশ আমরা অনুসরণ করব … আমরা শপথ নিয়েছি এবং আমাদের আন্তরিক ইচ্ছা পূরণে আমরা বিরত হব না। আমরা অস্ত্রসজ্জিত এবং যুদ্ধ কৌশল সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত … আমরা মনে করি যে, প্রতিশোধ গ্রহণের এই পদ্ধতিতে প্রদেশের বর্বর মুসলমানদের থামিয়ে দিতে পারব এবং এ থেকে তাদের বর্ণসংকর কুখ্যাত নেতা সোহরাওয়ার্দী ও নাজিমুদ্দিন প্রতিশোধ গ্রহণে হিন্দুদের সাহস সম্পর্কে অনুধাবন করতে পারবে।’ [জয়া চ্যাটার্জী, পৃ ২৭৬] ১৯৪৬ সালের অক্টোবর মাসে কলকাতার রাসবিহারী এভিনিউতে একটা পোস্টার সুস্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা হয়- এতে বলা হয়, ‘কুকুর সোহরাওয়ার্দীর মুন্ড চাই/সাদা চামড়ার রক্ত চাই।’ [জয়া চ্যাটার্জী, পৃ ২৮০]

আমার বিশ্বাস, নেতাজি সুভাস চন্দ্র বসু ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দেশবিভাগের সময় বেঁচে থাকলে মহাসভা-কংগ্রেসের ষড়যন্ত্রে যুক্তবাংলা ভেস্তে যেত না। গান্ধি, নেহরু, প্যাটেল, শ্যামা প্রসাদ বাবুদের চক্রান্ত বানচাল হয়ে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বৃহৎ বাংলা। অবিভক্ত বাংলা হলে আজ বাংলাদেশ হতো সুপারপাওয়ার। থাকত উন্নত রাষ্ট্রের একটা। ভারত, পাকিস্তান বাংলার নতজানু হয়ে থাকত। বাংলাদেশ হতো দুনিয়ার প্রধান শক্তিশালী দেশসমূহের একটি।

বাংলা ভাগ হওয়ায় আমরা নানাদিক থেকেই বঞ্চিত হয়। এমনকি পূর্ববঙ্গের প্রাপ্য থেকেও বঞ্চিত করা হয়। কলকাতা ছিলো পূর্ববাংলা হিন্টারল্যান্ড বা পশ্চাতভূমি। আমাদের পূর্বপুরুষদের অর্থে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ সমৃদ্ধ হয়। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, কলকাতা পূর্ব বাংলার টাকায় গড়ে ওঠে। [অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ ৭৯] আর্থিক হিস্যা থেকেও বঞ্চিত করা পূর্ব পাকিস্তানকে। অনেক জেলা কেড়ে নেয় মাউন্টব্যাটেন ও কংগ্রেস। আবুল মনসুর আহমদ লিখেছেন, ‘বিদেশি ও নিরপেক্ষ লোকদের অনেকেই স্বীকার করেছেন, পার্টিশনে পাকিস্তানের উপর অবিচার করা হয়েছে। রেফারেন্ডামে বিপুল মেজরিটি পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেওয়া সত্ত্বেও সিলেটের করিমগঞ্জ ভারতের ভাগে ফেলা, সমস্ত গৃহীত মূলনীতির বরখেলাফে পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জিলা ভারতের ভাগে ফেলা সুস্পষ্টতই ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতমূলক অবিচার। কাশ্মীর ও ত্রিপুরার সাথে ভারতের কন্টিগিউটি রক্ষার অসাধু উদ্দেশ্যেই এসব কাজ করা হইয়াছিল। [আবুল মনসুর আহমদ রচনাবলি ৩য় খ-, পৃ ১৫৪] এমনিভাবে বালুরঘাট, মালদহ, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, বনগাঁ, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি এলাকা কেড়ে নেয় ভারত। [অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ ৭৮]

তথ্যসূত্র
১. শেখ মুজিবুর রহমান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড ঢাকা, ২০১৪
২. জয়া চ্যাটার্জী, বাঙলা ভাগ হল, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড ঢাকা, তৃতীয় সংস্করণ ২০১৪
৩. ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, রাজনীতিতে বঙ্গীয় উলামার ভূমিকা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দ্বিতীয় সংস্করণ নভেম্বর ২০০২
৪. ডাঃ কালিদাস বৈদ্য, বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে অন্তরালের শেখ মুজিব, রামলাল বাজার, কলকাতা ৭৮, প্রথম প্রকাশ কলকাতা বইমেলা ২০০৫
৫. আবু জাফর, অসহিষ্ণু মৌলবাদীর অপ্রিয় কথা, আরআইএস পাবলিকেশন্স, কাটাবন বুক কর্নার, ঢাকা, এপ্রিল ২০০৫
৬. আবুল মনসুর আহমদ, রচনাবলি ৩য় খ-, বাংলা একাডেমি জুন ২০০১
৭. যশোবন্ত সিংহ, জিন্না ভারত দেশভাগ স্বাধীনতা, প্রথম বিআরপি সংস্করণ, ডিসেম্বর ২০০৯
৮. শেখ মুজিবুর রহমান, কারাগারের রোজনামচা, প্রথম প্রকাশ মার্চ ২০১৭, বাংলা একাডেমি ঢাকা
৯. বিমলানন্দ শাসমল, ভারত কী করে ভাগ হলো, হিন্দুস্তান বুক সার্ভিস, আগস্ট ১৯৯১
১০. অনীক (সম্পাদক, দীপংকর চক্রবর্তী), জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বর্ষ ৫৪, সংখ্যা ৭-৮, পিপলস বুক সোসাইটি, কলকাতা ০০৯

Next Barisal banner ads

Leave a Reply

Your email address will not be published.